ইকোলজি বা বাস্তবিদ্যা
ইকোলজি সম্পর্কে অনেক গবেষক অনেকভাবে সংজ্ঞা দিয়েছেন। মূলত ইকোলজি হলো জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে জীব ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুতরাং বলা যায়, জীব ও পরিবেশের সাথে সামগ্রিক সম্পর্কই ইকোলজি। ইকোলজি কথাটি আসলেই চলে আসে খাদ্যশৃঙ্খল তথা ফুড চেইন। ফুড চেইন আসলেই প্রকৃতির বিচিত্র এক সৌন্দর্য।
★★★ প্রশ্ন হলো ফুড চেইন কি?
হরিণ তৃণ খায়, বাঘ হরিণকে খায়। এভাবে প্রকৃতিতে অসংখ্য উদাহারণ রয়েছ। ব্যাঙ পোকামাকড় খাই, সাপে ব্যাঙ খাই, আর সাপকে খাই বাজপাখি।
★★★ ইকোলজি কেনো গুরুত্ববহ?
ইকোলজি সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা খুবই জরুরী কেননা কোনো পরিবেশে টিকে থাকতে হলে ঐ পরিবেশের ইকোলজিক্যাল কন্ডিশন জানতে হবে।
কোনো অঞ্চলের ইকোলজির সাথে ঐ অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং জলবায়ু নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কেবলমাত্র ইকোলজি সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের দ্বারাই জানা যাবে কোন জীব কোনো পরিবেশে কী অবস্থায় থাকতে পারে।
যেমন, নদীতে বসবাসরত জীব সমূহের জীবনচক্র এক রকম, সামুদ্রিক জীব সমূহের জীব সমূহের জীবনচক্র আরেকরকম আবার মোহনায় বসবাসরত জীব সমূহের অবস্থান আরেকটু ভিন্নরকম। তিনটিই জলীয় অবস্থা সত্ত্বেও পরিবেশের কারনে উক্ত প্রাণীদের জীবনচক্র ভিন্ন।
তাছাড়া ইকোলজি বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় কোনো প্রাণীর কোনো পরিবেশে অভিযোজনের জন্য কি কি উপাদান কিংবা অবস্থা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক।
ইকোলজি বিষয়ক জ্ঞান দ্বারা কিভাবে লাভবান হওয়া যায়?
একটি উদাহারন দ্বারা প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া যায়।
একজন মৎস্যচাষী যদি পুকুরে মাছ চাষ করে, এক্ষেত্রে পুকুরটির অবস্থান অনুযায়ী এতে কি কি অর্গানিজম থাকতে পারে কিংবা বেড়ে উঠতে পারে, তা যদি সে সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে, তবে এ পুকুরে কোন মাছ কিভাবে চাষ করলে বেশি লাভবান হওয়া যায় তা সে জানতে পারবে। পরিশেষে বলা যায়, শুধু বেচে থাকার নিমিত্তে নয়, স্বাবলম্বী হতেও ইকোলজি বিষয়ক বিদ্যার্জন প্রয়োজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন