লম্বা হওয়ার আর কিছু কৌশল
আমরা বেশিরভাগ মানুষ মনে করি যে জিনতত্ত্বের উপর ভিত্তি করে আমদের শারীরিক বৃদ্ধি সম্পূর্ণ নির্ভর করে।
অর্থাৎ আমরা বংশগত ভাবে ঠিক যতটু বৃদ্ধি পাবো তার থেকে এক ইঞ্চিও বেড়ে উঠা সম্বভ নয়।
তবে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত যে আপনার বৃদ্ধির ৮০% নির্ভর করে আপনার বংশের উপর।
আর বাকি ২০% আপনার উপর বা অন্যান্য কিছু কৌশল বা পরিবেশের উপর।
তাহলে দাঁড়ায় যে যদি একজন ব্যক্তির উচ্চতা হয় ৫ ফুট তাহলে তার উচ্চতা ২০% করলে হয় ১ ফুট আর এর থেকে পরিবেশ গত ভাবে ৬ ইঞ্চি ধরলেও আরও ৬ ইঞ্চি নিজে বাড়ার জন্য থেকে যায়।
এক. সুষম খাদ্য :
মোটা শরীরে মানুষকে অনেকটাই খাটো দেখায়। সেক্ষত্রে আপনাকে এমন খাদ্য গ্রহণ করতে হবে যেন আপনি এই মোটা হওয়া থেকে বাচঁতে পারেন।
আপনি সঠিক নিয়মে খাওয়া দাওয়া করলে আরও লম্বা হবেন, সাথে অবশ্যই ভালো বোধ করবেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণ চর্বিহীন প্রোটিন খাবার খান। চর্বিহীন প্রোটিন খাবার বলতে মুরগীর মাংস, মাছ, দুধ এই ধরনের খাবার খান।
এগুলো আপনার পেশীর বৃদ্ধি এবং হাড়ের সঠিক বিকাশে সাহায্য করবে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান। দুধ, দই, সবুজ শাকসবজীতে আপনি ক্যালসিয়াম পাবেন।
দুই. ব্যায়াম করুন:
লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যায়ামের বিকল্প কিছু হতে পারে না। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
যদি ব্যায়াম করতে খুব বেশি আলসেমি করেন তাহলে অন্তত প্রতিদিন হাঁটুন। ছবিতে ব্যায়ামের কিছু ধাপ দেওয়া হল। ভিডিওটি দেখেও আপনি ব্যায়াম করতে পারেন।
ধাপ ০১ :
মেঝেতে উপুর হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে শরীরের উপরের অংশটি আস্তে আস্তে তুলুন।
মেরুদন্ড বাঁকা করে মাথাটা পেছনের দিকে যতটা পারা যায় বাঁকান।
ধাপ ০২ :
হাঁটু ভাঁজ করে, হাতের তালু ও হাঁটুতে ভর দিয়ে বিড়ালের মত হোন। মাথা উপরের দিকে বাঁকিয়ে পিঠ নিচের দিকে বাঁকিয়ে নিন।
এরপর মাথা নিচু করে মেরুদন্ড বা পিঠ উপরের দিকে বাঁকা করুন। ৮ সেকেন্ড পর এভাবে কয়েক বার করুন।
ধাপ ০৩ :
মেঝেতে বসুন। দু পা দুদিকে ছড়িয়ে দিন। এরপর ডান হাঁটু তে নাক লাগানোর চেষ্টা করুন,
হাঁটু ভাঁজ না করে যতটা পারা যায়। ৮ সেকেন্ড থাকুন এভাবে। এরপর বা পায়ে একই ভাবে করুন।
ধাপ ০৪ :
উপুর হয়ে শুয়ে পড়ুন। এরপর হাতের তালু ও পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে শরীরটি উপর
দিকে বাঁকিয়ে উঁচু করে তুলে ধরুন মাথা নিচে রেখে। এভাবে ৮ সেকেন্ড থাকুন।
ধাপ ০৫:
মেঝেতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাটু ভাঁজ করে পায়ের গোড়ালী নিতম্বের কাছে নিয়ে আসুন।
এরপর গোড়ালী হাত দিয়ে ধরুন। এরপর কোমড় সহ নিতম্ব উপরের দিকে উঠান। মাথা নিচে থাকবে। এভাবে ১০ সেকেন্ড থাকুন।
তিন. পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম :
ঘুম মানুষের মানসিক শান্তির পাশাপাশি যেমন শারীরিক শান্তিও দেয়, তেমনি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে ঘটতে পারে
আপনার স্বাভাবিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত। তাই রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান। এতে আপনার শারীরিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
চার. দেহের সঠিক অঙ্গবিন্যাস:
চলাফেরায় নিজেকে এমব ভাবে তুলে ধরুন যেন আপনাকে আরও স্মার্ট এবং লম্বা দেখায়। মেরুদন্ড সোজা রেখে হাটুন, বসুন।
ঘুমানোর সময়ও ঘাড় সোজা রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
পাঁচ. ঝুলে থাকা ব্যায়াম করুন:
ঝুলে থাকা ব্যায়াম উচ্চতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মত এই ব্যায়ামটি অবশ্যই করবেন।
১০ সেকেন্ড করে করে ঝুলে থাকুন। এভাবে প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট করুন। কষ্ট হলেও কাজে দিবে।
ছয়. সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া করুন:
খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। মনে রাখবেন অসময়ে খাওয়া আপনার লম্বা হওয়ার পথেই শুধু বাঁধা দেয় না, এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই সঠিক সময় অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া করুন।
সাত. বাই-সাইকেল চালান:
বাই-সাইকেল চালান। এতে আপনার লম্বা হওয়ার পথ সুগম হবে।
আট. ধূমপান বন্ধ করুন:
যেগুলো লম্বা হওয়ার পথে বাধা তার মধ্যে অন্যতম ধূমপান। ধূমপান থেকে দূরে থাকুন।
মদ্যপান বা এই জাতীয় বস্তু থেকে দূরে থাকুন। এগুলোতো আপনাকে লম্বা হতে দিবেই না, সাথে আপনাকে সামাজিক ভাবে হেয় করবে।
নয়. সাতাঁর :
সাতাঁর আপনাকে লম্বা হতে সাহায্য করবে। সপ্তাহে একবার হলেও সাতাঁর কাটার চষ্টা করুন।
দশ. মানসিক চাপ কমান :
স্ট্রেস বা মানসিক চাপ যা হচ্ছে আপনার লম্বা বৃদ্ধি হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বাঁধা।
যাতে আপনার হরমোনের মাত্রা কমে যায় এবং করটিসল উৎপাদিত হয়। ভিটামিন সি সম্পূরকসমূহ যা করটিসল কমাতে জোর সহায়তা করে। কৌশলগুলো মেনে চলুন। সুস্থ থাকুন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন