•••••••••ডাক্তারঃ ইনি মারা গেছে মানে? কবে? কিভাবে?
আনিকাঃ ডাক্তারকে সব খুলে বললো?
ডাক্তারঃ কি বলছেন এসব? এটা কি করে সম্ভব?
আয়াতঃ কি হয়েছে আপনি এমন রিয়াক্ট কেন করছেন?
তারপর ডাক্তার যা বললো তা শুনে আয়াতের পায়ের নিচে মাটি কেঁপে উঠলো। তারপর আয়াত ডাক্তারের সাথে কিছু কথা বললো। হঠাৎ করে বাড়ির পরিবেশটা কেমন যেনো থমথমে হয়ে গেলো। আনিকার পেগনেন্সির খরব পেয়ে আয়াতের সেই আঙ্কেল আন্টিও আসলো। তারাও আয়াতের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলো। আন্টি বলছে-----
আন্টিঃ গতবার আমরা রাহাতের সত্যিটা তোমার সামনে আনার জন্য তনয়াকে সাহায্য করেছিলাম। আর রাহাতের কাছ থেকে সব কথা বের করার জন্য তোমার বন্ধু মেহেদীর সাহায্য নিয়েছিলাম। কারন মেহেদী রাহাতের খুব ক্লোজ হলেও রাহাতের কার্যকালাপ মেহেদী একদম পছন্দ করতো না। আর মেহেদী তোমাকে খুব ভালো বন্ধু ভাবে। কিন্তু রাহাতের তখনকার কথা আর এখন কার কাজের কোন মিল পাচ্ছি না।
আয়াতঃ আমাকেও সে সত্যিটা জানতে হবে। একটা সত্যি তনয়া বের করেছিলো আরেকটা আমি করবো। এই বলে আয়াত কাকে যেনো ফোন করে বেশ কিছুক্ষন কথা বললো। তারপর তনয়কে সাথে নিয়ে কোথায় যেনো বেরিয়ে গেলো।
রাত দুটোর বেশি বাজে
তখন আয়াতদের বাড়ির সামনে এমবুলেন্স এর জোড়ালো শব্দে পাড়া প্রতিবেশির ঘুম ভেঙে গেলো। কয়েকজন আয়াতদের বাড়ির ভিতরে এলো। তনয়দের বাড়ির লোকও সেদিন আয়াতদের বাড়ি ছিলো। এমবুলেন্স দেখে সবার মনটা অজানা ভয়ে কেঁপে উঠলো। সবাই উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এমবুলেন্স এর দিকে। প্রথমে তনয় নামলো। তারপর পিছনের দরজা খুলে আয়াত নামলো। আর স্ট্রেচারে করে নামালো #তনয়াকে। কয়েক মূহুর্তের জন্য যেনো সবাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। তনয়া মুখে অক্সিজেন মাস্ক। মনে হয় বেঘরে ঘুমাচ্ছে। স্টেচারটাকে নামিয়ে দুজন তনয়াকে সোজা আয়াতের রুমে নিয়ে গেলো। দু তিন জন ডাক্তারও ওদের সাথে আসলো। স্টেচার থেকে তনয়াকে বিছানায় শোয়ালো ডাক্তার সব কিছু ঠিক করে দিলো। কিছুক্ষন পর সব ঠিক করে ডাক্তাররা চলে গেলো। একজন পারমান্টে নার্স রেখে গেলো। আয়াত রাখতে চাইনি কিন্তু ডাক্তার বললো কখন কি রকম লাগবে আপনি তা বুঝবেন না। তারপর রাজি হলো।
সবাই যেনো ঘোরের মধ্যে আছে। কেউ যেনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। যে তনয়াকে প্রায় এক বছর আগে কবর দিয়ে এসেছিলো। সেই তনয়া এখোনো জীবিত! কি করে সম্ভব? তনয়ার মা বাবা, বেঘোরে কান্না করছেন। আয়াতের বাবা , মা আনিকা আর আঙ্কেল আন্টিরও এক অবস্থা। কারো কথা বলার ভাষা নাই। আর আয়াত! আয়াত অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তনয়ার দিকে। মনে হচ্ছে কতকাল পর তনয়াকে দেখছে। তনয়ার একটা হাত ধরে নিজের বুকের সাথে চেপে রেখেছে। আজ যেনো আয়াত নিজের প্রান ফিরে পেলো। কোন কথা বলছে না শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তনয়ার দিকে।
আনিকাঃ তনয় এসব কিভাবে? (খুব কষ্টে কথা গুলো বলছে।)
তনয়ঃ বাইরে চলো। সব বলছি। আয়াত থাকুক তনুর কাছে।
তনয়ার মা তনয়ার কপালে হাত বুলিয়ে কপালে একটা চুমো দিয়ে বাইরে গেলো।
তনয়ার বাবাঃ তাড়াতাড়ি বল? এটা কি সত্যিই আমাদের তনয়া? বলনা? কিভাবে পেলি? কোথায় পেলি? আর ও যদি তনয়া হয় তাহলে আমরা যাকে কবর দিলাম সে কে?
তনয়ঃ বাবা ওই আমাদের তনয়া। সব বলছি। আপনারা সবাই শান্ত হয়ে বসুন। বিকালে আমি আর আয়াত বের হয়ে ডাক্তারের দেয়া সেই ঠিকানায় যাই। আসলে সেটা একটা হাসপাতালের ঠিকানা ছিলো। ডাক্তারই আমাদের সেখানে নিয়ে গেলেন। তিনিতো বিকালে তনয়ার ছবি দেখে আর ওর মৃত্যুর কথা শুনেই চমকে উঠে বললো
ডাক্তারঃ গত আট কি নয় মাস ধরে আমি এই মেয়েটির চিকিৎসা করছি। মেয়েটি অনেক দিন যাবত কোমায় আছে। কোন রেসপন্স করছে না। কিন্তু বেঁচে আছে। আর আপনারা বলছেন ওনি এক বছর আগে একসিডেন্ট এ মারা গেছে। ইনফ্যক্ট মেয়েটির স্বামী কয়েকদিন পর পর এসে মেয়েটিকে দেখে যায়। কিন্তু তাকে দেখে মনে হয়না তিনি মেয়েটিকে ভালোবাসে। মেয়েটির দেখা শুনার জন্য একজন পারমানেন্ট নার্স রেখে দিয়েছে।
আয়াতঃ কি বলছেন কি? তনয়া আমার স্ত্রী। আর আপনি কি সত্যি বলছেন যে সেই মেয়েটিই তনয়া?
আনিকাঃ আপনার তো কোথাও ভুলও হতে পারে?
ডাক্তারঃ ইমপসিবল! আমি গত আট নয় মাস ধরে মেয়েটি টিটমেন্ট করছি। আমার ভুল হতেই পারে না। আমার কথা বিশ্বাস না হলে হাসপাতালের ঠিকানা আর কেবিন নাম্বার দিচ্ছি গিয়ে কনফ্রম হয়ে নিন।
আয়াতঃ তাড়াতাড়ি ঠিকানা দিন। তারপর তনয় আর আয়াত সেই ঠিকানা মোতাবেগ গেলো।
শহরের বাইরে একটি হসপিটাল। সেখানে আয়াত, তনয় আর ডাক্তারও সাথে ছিলো। ওরা হসপিটালে গিয়ে সোজা সেই কেবিনের ভিতরে চলে গেলো। ভিতরে গিয়ে আরো অবাক হলো কারন ভিতরে নার্সের পোশাকে সেই মহিলাকে দেখলো যাকে আয়াত দুবার ফলো করেছিলো। আর তনয়াকে দেখলো বেডে ঘুমিয়ে আছে। অক্সিজেন মাক্স লাগালো। কোন হুস নেই কিন্তু এখনো তার নিঃশ্বাস চলছে। আয়াত তনয়াকে দেখে ঝড়ঝড় জরে কেঁদে দিলো। তনয়া তনয়া বলে ডাকলো। তনয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। কিন্তু তনয়ার কোন সাড়া শব্দ নাই। কিন্তু তনয়ার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিলো। মনে হয় তনয়া বুঝতে পেরেছে আয়াত এসেছে। তনয়ও কান্না করতে ছিলো। সাথে নার্স মহিলাকে আটক করে রাখলো পুলিশ খবর দিলো। আর মহিলাকে ভয় দেখিয়ে জিগেস করলো এসব কে করেছে। মহিলা ভয় পেয়ে সব বলে দিলো যে এসব কিছু রাহাত করেছে। আয়াত আর তনয় প্ল্যান করে মহিলাকে বলে রাহাতকে ফোন দিয়ে আসতে বলতে। কতক্ষন পর রাহাত আসলো। তখন অলরেডি পুলিশ এসে গেছিলো। রাহাতকে গ্রেফতার করে। তনয় আর আয়াত রাহাতকে কতক্ষন ধোলাই দিলো (উইথ আউট সাবান) তারপর আয়াত জিগেস করলো
আয়াতঃ এসব কেন করলি রাহাত? কেন তুই তনয়াকে এত কষ্ট দিলি? শুধুমাত্র তনয়ার প্রতি আর্কষন বা ঘৃনার কারনে তুই এমনটা করিসনি? অন্য কোন কারন নিশ্চই আছে? কি সেটা বল?
অর্নবঃ হ্যা ঠিক বলছিস আয়াত। (অর্নব আয়াত বন্ধু। একজন পুলিশ অফিসার। আয়াত ওর সাথেই ফোনে কথা বলতো)
আয়াতঃ কি বলছিস অর্নব?
অর্নবঃ ঠিক বলছি। কারন তনয়ার একসিডেন্ট এমনি এমনি হয়নি। যে ট্রাক ড্রাইভার তনয়ার গাড়িটাকে ধাক্কা দিয়েছিলো। তাকে ধরে আচ্ছামত ধোলাই দিয়ে জিগেস করেছি সত্যিটা কি? ব্যাটা সব সত্যি বলে দিয়েছে ওকে কেউ তনয়াকে মারার জন্য টাকা দিয়েছিলো পরে সব খবর নিয়ে জানি সে আর কেউ নয় রাহাত। ওই ট্রাক ড্রাইভারকে তনয়াকে মারার জন্য টাকা দিয়েছিলো।
আয়াত হতভম্ব হয়ে রাহাতকে জিগেস করলো
আয়াতঃ এমন কি শত্রুতা তোর তনয়ার সাথে যে তুই ওকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলি?
রাহাতঃ শত্রুতা আমার তনয়ার সাথে না তোর সাথে। কষ্ট আমি তনয়াকে না তোকে দিতে চেয়েছি। ওয়েল সত্যি যখন জেনেই গেছিস তখন লুকিয়ে কি লাভ? হ্যা তনয়ার একসিডেন্ট আমি করিয়েছিলাম। মেরে ফেলতে চেয়েছিলাম ওকে। কিন্তু কপাল জোড়ে বেঁচে গেলো। ভাবছিলাম ওকে মেরে আমি তোকে সারা জীবন যন্ত্রনা দিবো। তারপর ভাবলাম আমি শুধু শুধু তনয়াকে কেন মারবো? আমার উদ্দেশ্যতো তোকে কষ্ট দেয়া। সেটা তনয়াকে বাঁচিয়ে রেখেও দেয়া যাবে। কিন্তু তুই জানবি যে তনয়া মারা গেছে।
আয়াতঃ কিন্তু যে মেয়েটাকে আমরা তনয়া ভেবে কবর দিলাম সে কে? আর সে দেখতে তনয়ার মত কিভাবে?
রাহাতঃ কাম অন ইয়ার! ইট'স টেকনোলোজি। আধুনিক প্রযুক্তিতে কি না সম্ভব? কিন্তু কি জানিস উপর ওয়ালাও চাইতো তুই শাস্তি পা। তাই তো একদিন আমি হাসপাতালে একটা মেয়ের ডেডবডি দেখলাম হুবহু তনয়ার শারীরিক গড়নের মত। এমন কি চেহারায়ও প্রায় ৭০% মিল পাওয়া যাবে। আমিতো মেয়েটাকে দেখে হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। তারপরই প্ল্যানটা মাথায় আসলো। মেয়েটার ডেডবডিতে এমন ইনজেকসন দিলাম যাতে ৪৮ ঘন্টার বেশি ওকে দেখলে যেনো জীবিত মনে হয়। তারপর ডাক্তারদের সাহায্যে মানে তাদের টাকা খাইয়ে মেয়েটার চেহারাটাকে পাল্টে দিলাম। পরে কৌশলে তনয়ার বডির সাথে রিপলেস করে দিলাম। আর তোরা সেই মেয়েটাকে তনয়া মনে করে দাফন দিয়ে দিলি। গত এক বছর ধরে তুই যে মরন যন্ত্রনা ভোগ করছিলি সেটা দেখে আমার যে কি শান্তি লাগতো তা বলে বুঝাতে পারবো না।
আয়াতঃ কিন্তু রাহাত আমি তোর কি এমন ক্ষতি করেছি যে তুই আমার সাথে এমনটা করলি?
রাহাতঃ সেটা আবার জিগেস করছিস? তুই জানিস রিমুর এ অবস্থার জন্য কে দায়ী?
আয়াতঃ কে?
রাহাতঃ তুই তুই!
আয়াতঃ মানে ? আমি রিমুর কি ক্ষতি করলাম?
রাহাতঃ মনে আছে ঠিক চার বছর আগে রিমু তোকে প্রপোজ করেছিলো?
আয়াতঃ হ্যা আছে। কিন্তু রিমু তখন ষোল সতের বছরের বাচ্চা মেয়ে। তাই আমি ওকে বুঝিয়ে বলেছিলাম এসব আবেগ মাত্র। আর আমি ওকে কখনো সে নজড়ে দেখিনি। তাই ভালোবাসি না। তার কিছুদিন পরতো তুই বললি রিমু পড়াশুনার জন্য বাহিরের চলে গেছে।
রাহাতঃ হ্যা গেছিলো। কিন্তু ও তখনও তোকে ভালোবাসতো। কিন্তু মাস ছয় পর যখন শুনলো তুই অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসিস তখন ও কেঁদে কেঁদে বলেছিলো ও তোকে চায়। তাই আমি তনয়াকে তোর থেকে দূরে সরাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই তুই তনয়াকেই বিয়ে করলি তারপর সুখে সংসার করতেছিলি। আর এদিকে তোর শোকে রিমু মানুষিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লো। আর ওকে শেষমেষ এসাইলেমে পাঠাতে হলো। নিজের বোনের এমন কষ্ট কোন ভাই দেখতে পারবে? তাই আমিও তোকে সে কষ্টটা দিতে চেয়েছিলাম যেটা রিমু পাচ্ছে। দিতে সফলও হয়েছি। কারন কি জানিস ডাক্তার বলেছে তনয়া বড় জোর একমাস বাঁচবে। এখন আমার যা শাস্তি হোক তাতে আমার কোন আফসুস নাই। প্রতিশোধ তুই নিসনি আয়াত প্রতিশোধ আমি নিয়েছি। চরম প্রতিশোধ। এ প্রতিশোধের গল্প তুই রচনা করিস নি আমি করেছি।
আয়াতঃ (একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে) রাহাত রিমুর সাথে যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি। কিন্তু আমি কখনো জানতাম না যে রিমু আমায় এত ভালোবাসতো কারন ওকে সবসময় আমি ছোট বোনের নজড়ে দেখছি। কারন ও আমার বোন আনিকার থেকেও ছোট। কিন্তু তাই বলে তুই এতটা নিচে নামলি। অর্নব ওকে নিয়ে যা। এবার দেখি ও কিভাবে ছাড়া পায়।
তারপর তনয়াকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ভালোভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে। তারপর বাড়ি নিয়ে আসে। কারন আয়াত তনয়াকে নিয়ে আর কোন রিক্স নিতে চায় না। তনয়ের কথা শুনে সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো। একটা মানুষ নিজের বন্ধুর সাথে কিভাবে এমন করতে পারে? কিভাবে এমন প্রতিশোধ নিতে পরে? আর এদিকে আয়াত তনয়ার হাত ধরে ওর দিকে তাকিয়ে আছে।
কিছুদিন পর তনয়া অল্প অল্প রেসপন্স করছে। আয়াত দিন রাত তনয়ার সেবা করছে সারাক্ষন ওর পাশে থাকছে। ডাক্তার বলেছে এতদিন তনয়ার মনে হয় বাঁচার ইচ্ছা ছিলো না। কিন্তু নিজের পরিবারকে পাশে পেয়ে এখন ওর বেঁচে থাকার ইচ্ছা জেগেছে। এরকম রেসপন্স করলে খুব শিগ্রই তনয়া সুস্থ হয়ে যাবে। সবাই বিষয়টা নিয়ে ভিষন খুশি। কারন তনয়ার সুস্থতা সবার কাম্য। এদিকে আনিকা মা হতে চলেছে। খুশি ডাবল হয়ে গেছে।
কয়েকমাস পর------
আজ আনিকার কোল জুড়ে একটি ছোট ছেলে এসেছে।
তনয়া এখন সম্পূর্ন সুস্থ। আয়াতের ভালোবাসা তনয়াকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছে। সবাই আনিকার বাচ্চাটাকে নিয়ে আদর করছে। আয়াততো প্রচন্ড খুশি। মামা হয়েছে। বাড়িতে প্রচন্ড খুশির মহল। সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আর হ্যা রাহাতেরও শাস্তি হয়েছে
রাতের বেলা তনয়া বারান্দায় দাড়িয়ে ছিলো আয়াত এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে বললো
আয়াতঃ কি ভাবছো?
তনয়াঃ একটা বছর আমাকে নিয়ে কি কি হলো? ভাবতেই বুকটা ভয়ে কেঁপে ওঠে? এ কেমন প্রতিশোধ?
আয়াতঃ তোমাকে আমি কয়েকমাস প্রতিশোধ নেয়ার ছলে যে যে কষ্ট দিয়েছিলাম তার প্রতিশোধ উপরওয়ালা আমাকে কষ্ট দিয়ে নিয়েছে। বাদ দেও ওসব পুরানো কথা। এখন আমরা নতুন গল্প লিখবো। তোমার আমার গল্প। আয়াত আর তনয়ার ভালোবাসার গল্প।
তনয়াঃ হুমম ঠিক বলছো। তা মিঃ হ্যাজেবেন্ড মামা হয়ে এত খুশি। আমি তো এক সাথে ফুপি আর মামি হলাম। এবার অন্য কিছু হতে চাই। এবার না বললে তোমাকে কোমায় পাঠিয়ে দিবো।
আয়াতঃ আচ্ছা! তা আমার লক্ষি এখন কি হতে চায়?
তনয়াঃ তোমার লক্ষি এবার নিজে মা হতে চায়।
আয়াত কিছু বলতে যাবে কিন্তু তার আগেই তনয়া আয়াতের ঠোট জোড়াকে নিজের উষ্ম নিঃশ্বাস দিয়ে ঘিরে ফেলেছে।
বাকিটা ওদের মধ্যেই থাকুক আপনাদের জানার দরকার নাই। গত বার স্যাড এনডিং দিয়েছিলাম বলে অনেক হামলা করেছেন। এবার খুশিতো সবাই?
ভালোবাসাকে ভালোবাসুন
ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস রাখুন
কারন সয়ং উপওয়ালাও
ভালোবাসাকে ভালোবাসে
সবাই খুব ভালো থাকবেন, নিজের আপনজনদেরকেও ভালো রাখবেন। আমার জন্য আর আমার ভালোবাসার জন্য দোয়া করবেন । আর হ্যা সবসময়ের মত ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।
আল্লাহ হাফেজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন