প্রতিশোধ পর্ব ৯

---------রা‌তে খে‌য়ে সবাই শু‌য়ে পড়লো। তনয়া সব কাজ গু‌ছি‌য়ে রুমে ‌গি‌য়ে দে‌খে আয়াত মুখ ফু‌লি‌য়ে চুপচাপ ব‌সে আছে।

তনয়াঃ কি হ‌লো এখ‌নো ঘুমান নি?

আয়াতঃ না (অভিমান ক‌রে)

তনয়াঃ কেন?

আয়াতঃ আমার কোলবা‌লিশ নাই তাই।

তনয়াঃ কেন বিছানার উপর এত বড় একটা কোলবা‌লিশ চো‌খে দে‌খেন না না‌কি?

আয়াতঃ আমার জীবন্ত কোলবা‌লিশ চাই!

তনয়া বুঝ‌তে পার‌লো কি চাই? তাই দুষ্ট‌মি ক‌রে বল‌লো

তনয়াঃ কিন্তু কোলবা‌লিশ‌তো আজ তার নন‌দের কা‌ছে ঘুমা‌বে। এই ব‌লে যে‌তে নি‌বে ওম‌নি আয়াত তনয়ার হাত ধ‌রে টান দি‌য়ে কা‌ছে টে‌নে নি‌য়ে ব‌লে

আয়াতঃ বল‌লেই হ‌লো? কোলবা‌লিশ ছাড়া আমার ঘুম হ‌বে না।

তনয়াঃ আচ্ছা! তা জনাব ইদা‌নিং এতো রোমা‌ন্টিক হবার কারন জান‌তে পা‌রি?

আয়াতঃ তনয়ার কপা‌লে একটা ভা‌লোবাসার পরশ দি‌য়ে বল‌লো দু‌দিন অপেক্ষা ক‌রো সব বল‌বো। তনয়া তোমায় একটা কথা বল‌বো?

তনয়াঃ হুমম ব‌লেন?

আয়াতঃ আই লাভ ইউ। আই লাভ ইউ এ লট। আই লাভ ইউ মোর দেন এভ‌রিওয়ান। আই লাভ ইউ লাইক এ সাই‌কো ম্যাড। ডু ইউ লাভ মি?

তনয়া কিছু বল‌ছে না। চোখ থে‌কে অনর্গল জল ঝড়‌ছে। যে কথাটা শোনার জন্য এত‌দিন অপেক্ষা কর‌ছে আজ সে কথাগু‌লো শু‌নে কেমন অনুভু‌তি হ‌চ্ছে তা ব‌লে বোঝা‌নো যা‌বে না। আজ আয়া‌তের চো‌খে কোন ঘৃনা নাই। কোন প্র‌তি‌শোধ নাই। আছে শুধু ভা‌লোবাসা। তনয়া আজ আয়া‌তের চো‌খে অসম্ভব রকম একটা ভরশা দেখ‌তে পা‌চ্ছে। যেটা এত‌দিন ধ‌রে আয়া‌তের চো‌খে খুজচ্ছি‌লো তনয়া। তনয়া কোন কথা বল‌তে পার‌ছে না শুধু ফু‌পি‌য়ে ফু‌পি‌য়ে কাঁদ‌ছে। আয়াত তনয়ার চো‌খে একটা চুমু খে‌য়ে বল‌লো। চেষ্টা কর‌বো তোমার চোখ থে‌কে যাতে আর এত দা‌মি মুক্তা না ঝ‌ড়ে। য‌দি মুক্ত গু‌লো ঝ‌ড়ে যায় তাহ‌লে তো আমি গরীব হ‌য়ে যা‌বো। তনয়া কিছু বল‌ছে না। শুধু আয়া‌তের দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে।

আয়াতঃ কি হ‌লো? উত্তর দাও? ডু ইউ।

তনয়াঃ গাধাঁ ! এখ‌নো বলা লাগ‌বে? বু‌ঝো না কিছু?

আয়াতঃ বু‌ঝি বাট মু‌খে শোনার অনুভু‌তিই আলাদা!

তনয়াঃ আই লাভ ইউ মিঃ সাই‌কো।

আয়াতঃ কি আমি সাই‌কো?

তনয়াঃ হ্যা সাইকোই তো?

আয়াতঃ আচ্ছা! তাহ‌লে তো এখন একট‌ু সাই‌কো‌গি‌রি দেখা‌তে হয়?

তনয়াঃ না একদম না!

আয়াতঃ একদম হ্যা

প‌রের দিন সকা‌লে তনয়া, আর 
দুই মা মি‌লে নাস্তা বানা‌চ্ছি‌লো তখন তনয়ার বড় ভাই তনয় এসে বল‌লো তনু শোন?

তনয়াঃ হ্যা ভাইয়া বল?

তনয়ঃ বোন তোর একটা ভা‌বি আন‌লে কেমন হ‌বে?

তনয়াঃ এত না পেঁচি‌য়ে বলনা যে, তুই আনিকা‌কে পছন্দ ক‌রিস!

তনয়ঃ বোন তুই জা‌নিস ?

তনয়াঃ আমাকে দেখ‌তে আসার দিন থে‌কে খেয়াল ক‌রে‌ছি যে তুই আনিকার পিছ‌নে ঘুরঘুর ক‌রিস। আর তোরা প্রায় এক মা‌সের বে‌শি সময় ধ‌রে রি‌লেশ‌নে আছিস।

তনয়ঃ তুই কিভা‌বে জান‌লি?

তনয়াঃ আমার ননদ তোর মত হারা‌মি না। ও আমার কা‌ছে সব ব‌লে।

তনয়ঃ তাহলে আয়াত‌কে ব‌লে কিছু একটা ব্যবস্থা করনা।

হঠাৎ আয়াত আনিকাকে নি‌য়ে এসে বল‌লো

আয়াতঃ তার দরকার নাই। আমি সব জা‌নি। তনয় আর আনিকা ভ‌য়ে ঢোক গিল‌ছে। এদি‌কে আয়াত আর তনয়া ওদের অবস্থা দে‌খে দুজন জো‌ড়ে হে‌সে দি‌লো।

আয়াতঃ তনয়া ভাইয়া আমি আপনার ছোট বোন‌কে বি‌য়ে করলাম ব‌লে আপ‌নিও আমার ছোট বো‌নকে বি‌য়ে কর‌তে চাই‌ছেন? আপ‌নি ভে‌বে দেখ‌ছেন এখন আমা‌দের সম্পর্কটা কতটা কম‌প্লি‌কে‌টেট হ‌য়ে যা‌বে?

তনয় মাথা চুল‌কি‌য়ে আস‌লে

আয়াতঃ আর আমার ছোট বোনতো একেবা‌রে মিরজাফর! ভাই‌কে কিছু বলুক না বলুক ভা‌বি‌কে সব সিক্রেট কথা ব‌লে। তনয়া এদের শা‌স্তি কি হ‌তে পা‌রে?

তনয়াঃ কি হ‌বে। কাল রা‌তে আমা‌দের বাবা মায়েরা যে ফয়সালা ক‌রে‌ছে তাই হ‌বে।

আ‌নিকা ঢোক গি‌লে কি ফয়সালা?

তনয়াঃ তোমাদের দুজন‌কে সারা জীব‌নের জন্য এক গা‌টে বেঁ‌ধে দেয়া হ‌বে। তাও আজ সন্ধ্যায়। মা‌নে আপনা‌দের এন‌গেজ‌মেন্ট।

তনয়ঃ কি? এসব কখন হ‌লো?

তনয়াঃ কাল রা‌তে তুই যখন ছা‌দে ব‌সে আনিকার সা‌থে লাইন মার‌ছি‌লি তখন। তারপর চারজন অনেক মজা কর‌লো

সন্ধ্যা বেলা------

সবাই ভিষন খু‌শি। এন‌গেজমে‌ন্টে শুধু প‌রিবা‌রের লোক ও আয়া‌তের কিছু বন্ধু আস‌বে। তনয়া দা‌ড়ি‌য়ে দেখ‌ছে আয়াত সহ সবাই কতটা খু‌শি। তা দে‌খে তনয়া চোখ দ‌ু‌টো ছলছল কর‌ছে। আর ম‌নে ম‌নে ভাব‌ছে আল্লাহ আমার সংসারটা যে‌নো সারা জীবন এমন সু‌খে ভর্তি থাকে। আয়াত তনয়ার পা‌শে এসে বল‌লো

আয়াতঃ মে‌য়ে‌দের এই এক দোষ খু‌শি হোক দুঃখ হোক এদের চো‌খের কোনায় জল লে‌গেই থা‌কে।

তনয়াঃ ভাব‌ছি সবাই যে‌নো এমনই খ‌ু‌শি থা‌কে।

এর ম‌ধ্যে আয়া‌তের কিছু বন্ধু আস‌লো। সা‌থে রাহাতও আস‌লো। রাহাত‌কে দে‌খে তনয়া ম‌নে ম‌নে বল‌ছে (শয়তা‌নের নাম নেবার আগেই শয়তান এসে হা‌জির) তনয়ার চো‌খে একটা ভয় দেখা গে‌লো। আয়াত তনয়ার বিষয়টা বু‌ঝে তনয়ার হাতটা ধ‌রে চো‌খের দি‌কে তা‌কি‌য়ে রই‌লো। তনয়া আয়াতের চো‌খের ‌দি‌কে তা‌কি‌য়ে অনেকটা অবাক হ‌লো কারন তনয়া যে চো‌খে সবসময় ওর জন্য ঘৃনা মি‌শ্রিত ভা‌লোবাসা দেখ‌তো সে চো‌খে আজ কেবল ভা‌লোবাসা মি‌শ্রিত ভরশা।

সবাই যে যার মত কথা বল‌ছে। তনয়ার ফো‌নে রাহাত ফোন ক‌রে বল‌লো ছা‌দে আসো নয়‌তো পা‌র্টি‌তে এত সিন‌ক্রি‌য়েট কর‌বো তার পর কেঁ‌দে কুল পা‌বে না। তনয়া কি কর‌বে বুঝ‌তে পার‌ছে না? আয়াত‌কে বল‌তে যাবে কিন্তু আয়াত ওর বন্ধু‌দের সা‌থে কথায় ব্যাস্ত। কোন উপায় না দে‌খে ও ছা‌দে গেলো।

তনয়াঃ কেন ডে‌কে‌ছেন?

রাহাতঃ ওহ এখন একেবা‌রে আপ‌নি হ‌য়ে গেলাম? আচ্ছা ঐ আয়াতটার মা‌ঝে কি আছে যে তু‌মি ওকে পাগ‌লের মত ভা‌লোবা‌সো। আর ওর জন্য আমা‌কে ধোকা দি‌লে?

তনয়াঃ জাস্ট সেটাপ। আমি কখ‌নো তোমায় ধোকা দেই‌নি। ধোকা দেয়ার প্রয়োজন তা‌কে প‌রে যা‌কে ভা‌লোবা‌সে। আমি শুরু থে‌কেই আয়াত‌কে ভা‌লো‌বে‌সে এসে‌ছি। মাঝখান থে‌কে তু‌মি ‌চি‌টিং ক‌রে আমা‌দের মা‌ঝে ডু‌কে প‌রে‌ছো। আর শোন একটা মে‌য়ে সবসময় আয়া‌তের মত ভা‌লো মানুষ খো‌জে তোমার মত লম্পট না।

রাহাতঃ ওহ আমি লম্পট হ‌য়ে গেলাম। তোর শরী‌রে তো কোন দিন আমায় টাচ কর‌তে দিস‌নি। তাহ‌লে লম্পট কিভাবে হলাম? এখন লম্পট কা‌কে ব‌লে সেটা তো‌কে দে‌খি‌য়ে দি‌বো। এই ব‌লে তনয়া‌কে স্পর্শ কর‌তে যা‌বে অম‌নি তনয়ার ভাই তনয় এসে রাহা‌তের হাতটা ধ‌রে ক‌ষে এতটা চড় মা‌রে রাহাত‌কে।

তনয়াঃ ভাইয়া তুই?

তনয়ঃ ফো‌নে কথা বল‌তে এসে‌ছিলাম কিন্তু দেখলাম তোর সা‌থে ও

তনয়াঃ ভাই তোর সা‌থে কিছু কথা আছে তার আগে ওকে এখান থে‌কে বিদায় কর। তনয় রাহাত‌কে বল‌লো ভা‌লোয় ভা‌লোয় যা‌বি না‌কি বো‌নের জুতা দি‌য়ে তো‌কে জুতা‌বো।

রাহাতঃ তোমায় আমি দে‌খে নে‌বো তনয়া।

তনয়ঃ তা আমিও দেখ‌বো তুই বোন‌কে কি ক‌রিস?

তারপর তনয় আর তনয়া ছা‌দে ব‌সে কিছুক্ষন কথা ব‌লে নিচে গে‌লো।

রা‌তের বেলা তনয়া আয়াত‌কে রাহা‌তের কান্ড বল‌বে কিনা তা ভাব‌ছে ? কিন্তু আয়াত আজ খুব খু‌শি এ কথাগু‌লো ব‌লে ওর খু‌শিটা মা‌টি করার ইচ্ছা তনয়ার হ‌লো না। ভাব‌লো কাল সবাই যাবার পর শা‌ন্তি‌তে বু‌ঝি‌য়ে বল‌বে।

আয়াতঃ ও ম্যাডাম কোথায় হা‌রি‌য়ে গে‌লেন?

তনয়াঃ ভাব‌ছি এখন থে‌কে আপ‌নি আমায় কষ্ট দি‌লে আমি আমার ভাইয়া‌কে ব‌লে দি‌বো তাহ‌লে সে আপনার বোন কে কষ্ট দিবে ।

আয়াতঃ ওহ রিয়ে‌লি! কিন্তু আমি য‌দি তার বোন‌কে ভা‌লোবা‌সি তাহ‌লে সে কি কর‌বে? আর তার বোন কি ভাই‌কে সেটা বল‌বে?

তনয়াঃ যাহ! অসভ্য।

আয়াতঃ আমি কিছু কর‌লেই অসভ্য। তাহ‌লে একটু অসভ্যতা‌মি ক‌রে দেখাই। অসভ্য কত প্রকার কি কি?

প‌রের দিন সবাই চ‌লে গেলো। তনয়ার ভিষন খারাপ লাগ‌ছে ঘরটা কেমন খা‌লি খা‌লি লাগ‌ছে। তনয়া মন খারাপ ক‌রে ব‌সে আছে। কারন আয়াতও তা‌দের ট্রে‌নে উঠি‌য়ে দি‌য়ে অফিস যা‌বে। সারা দিন একা একা তনয়ার খুব বো‌রিং লা‌গে। কিছুক্ষন পর দড়জার বেল বাজ‌লো। তনয়া দড়জা খু‌লে দে‌খে আয়াত।

তনয়াঃ কি ব্যাপার অফি‌সে যান নি?

আয়াতঃ হুমমম গি‌য়ে‌ছিলাম কিন্তু কাজ গুছি‌য়ে চলে এলাম। কারন জা‌নি সবাই যাবার পর তোমার মন খারাপ থাক‌বে। তাই চ‌লে আসলাম।

তনয়াঃ আস‌লেই ভিষন একা লাগ‌ছি‌লো।

আয়াতঃ হুমম বুঝ‌তে পার‌ছি।

তনয়া ফ্রেস হ‌য়ে আসেন আপনার সা‌থে কিছু কথা আছে।

আয়াত ফ্রেস হ‌য়ে এসে দে‌খে তনয়া সোফায় ব‌সে আ‌ছে। আয়াত তনয়ার কো‌লে মাথা দি‌য়ে সোফায় শু‌য়ে প‌রে। আর ব‌লে

আয়াতঃ ব‌লেন ম্যাডাম? কি কথা?

তনয়াঃ তার আগে ব‌লো তু‌মি রাগ কর‌বে না।

আয়াতঃ চেষ্টা কর‌বো।

তনয়াঃ আয়াত আজ‌কে বল‌বে যে তু‌মি কে? নীল‌য়ের নীল কে? নীল কে? আর তু‌মি আমায় ঘৃনা ক‌রো কেন? কি‌সের প্র‌তি‌শোধ নি‌তে চাই‌ছো?

আয়াত তনয়ার কোল থে‌কে মাথাটা উঠি‌য়ে বল‌লো এখন এ কথা কেন বল‌ছো তনয়া?

তনয়াঃ দেখুন আয়াত আমি জা‌নি আপ‌নিই আমায় চি‌ঠি পাঠা‌তেন আর আপ‌নি আমায় ভা‌লোবাস‌তেন? আমি সবটা জে‌নে‌ছি। কিন্তু আমি বুঝ‌তে পার‌ছি না আমাদের মা‌ঝে নীল মা‌নে রাহাত কিভা‌বে এলো?

আয়াতঃ সেটা‌তো তোমার জানার কথা? আমি কিভা‌বে জান‌বো? নীলের সা‌থে তো তোমার রি‌লেশন চল‌ছিলো তাই না?

তনয়াঃ আয়াত গত দেড় বছর ধ‌রে আপনার সা‌থে আমার সম্পর্ক চল‌ছে। ফো‌নে মে‌সেস এ। কিন্তু দেখা নী‌লের সা‌থে কিভা‌বে হ‌লো?

আয়াতঃ চুপ ব‌লে জো‌ড়ে একটা ধমক দি‌লো তনয়া‌কে? তনয়া কিছুটা ভয় পেলো। আয়াত বল‌লো তোমার সা‌থে আমারে সম্পর্ক মাত্র ছয় মাস ছি‌লো। ছয় মাস পর আমা‌দের যখন দেখা হবার কথা ছি‌লো বা ফো‌নো কথা হবার কথা ছি‌লো তখন তু‌মিই আমায় একটা মে‌সেস ক‌রে ব‌লে‌ছো ব‌লে ল্যাপটপ থে‌কে মে‌সেসটা দেখা‌লো
‌মে‌সেটা ছি‌লো

নীল আমি অন্য একটা ছে‌লে‌কে ভা‌লো‌বে‌সে ফে‌লে‌ছি। সে খুব ধনী। আপনার মত ম‌ধ্যে‌বিত্ত না! আমি তার সা‌থেই থাক‌তে চাই। আ‌মি তার সা‌থেই থাক‌তে চাই। আপনার সা‌থে দেখা করার কোন মা‌নেই হয় না। আর আমা‌কে মে‌সেস বা চি‌ঠি দি‌য়ে বিরক্ত ক‌রে নি‌জের নিচু মানু‌ষিকতার প্রমান দি‌বেন না।

তনয়া মে‌সেটা দে‌খে যে‌নো আকাশ থে‌কে পর‌লো।

তনয়াঃ আয়াত আমি এ মে‌সেস লি‌খি নাই।

আয়াতঃ তাহ‌লে তোমার আইডি থে‌কে এ ধর‌নের মে‌সেস কি ভু‌তে পাঠা‌লো?

তনয়ার মাথায় কিছু আস‌ছে না।

আয়াতঃ আমি ইচ্ছা ক‌রে তোমা‌কে ব‌লে‌ছি যে আমি নিম্ন মধ্য‌বিত্ত যা‌তে তোমার মনটা জান‌তে পা‌রি। কিন্তু তুমি‌তো মানু‌ষের সম্পদটা দেখলা? তাই বড় লোক দে‌খে আমাকে বি‌য়ে ক‌রে নিলা।

তনয়াঃ আয়াত ভু‌লে যা‌বেন না আমা‌দের ‌কোন অং‌শে কম নাই। যে আমি সম্প‌দের লোভ কর‌বো?

আয়াতঃ তু‌মি জা‌নো তোমার মে‌সেসটা পাবার পর থে‌কে আমি পাগ‌লের মত তোমার আইডি‌তে নক করতাম। কিন্তু ত‌ু‌মি আমায় ব্লক ক‌রে দি‌লে। জা‌নো তোমার কথা গু‌লো পড়ার পর আমি এতটা ডি‌প্রেশ‌নে চ‌লে গে‌ছিলাম যে দুবার সুইসাইড কর‌তে গে‌ছিলাম। তারপর সুস্থ হবার পর ভা‌বি তু‌মি যেটা ক‌রে‌ছো সেটার শা‌স্তি তোমায় আমি দি‌বো। চরম প্র‌তি‌শোধ নি‌বো।

তনয়াঃ আয়াত স‌ত্যি আমি ওমন কিছু লি‌খি নাই।

আয়াতঃ জাস্ট সেটাপ।

তনয়াঃ আয়াত প্লিজ বিশ্বাস করুন। আগে আমার পু‌রো কথাটা শুনুনন।

আয়াত কিছু বল‌তে যা‌বে তখন আয়া‌তের মোবাই‌লে কিছু মে‌সেস আসে। আয়াত মোবাই‌লের মে‌সেস গুলো দে‌খে রা‌গী চো‌খে তনয়ার দি‌কে তা‌কি‌য়ে বল‌লো

আয়াতঃ এটা কি? হোয়াট'স দ্যাট তনয়া? মে‌সেটা দে‌খি‌য়ে। তনয়া দেখ‌লো ছা‌দে দা‌ড়ি‌য়ে রাহা‌তের সা‌থে কথা বল‌ছে সেই সম‌য়ের কিছু পিক।

আয়াতঃ তেমা‌কে ব‌লে‌ছিনা তু‌মি রাহা‌তের দি‌কে দূ‌রে থাক‌বে। কেন পু‌রো‌নো বয়‌ফ্রেন্ড‌কে দে‌খে প্রেম আবার উত‌লে উঠে।

তনয়া আর কোন কথা বল‌লো। কারন যে মানুষটার চো‌খে কিছুক্ষন আগে পর্যন্ত ভরশা ছি‌লো এখন তার চো‌খে শুধু স‌ন্দেহ, রাগ আর ঘৃনা। তনয়া আয়া‌তের কাছ থে‌কে গি‌য়ে রু‌মে দড়জা দি‌য়ে পাথ‌রের মত ব‌সে আছে । আর ভাব‌ছে আয়াত কেন এমন? মূহু‌র্তেই ভা‌লোবা‌সে আবার মুহূ‌র্তেই পা‌ল্টে যায় । আয়াতও কোন কিছু না ব‌লে বাই‌রে চ‌লে যায়। অনেক‌ে রা‌তে বাসায় ফি‌রে। তনয়া খাবার দি‌লো কিন্তু না খে‌য়ে রু‌মে চ‌লে গে‌লো। তনয়া ভাব‌লো জিদ আমারও আপনার থে‌কে কোন অং‌শে কম না। তনয়া গি‌য়ে পা‌শের রু‌মে ঘু‌মি‌য়ে পর‌লো।

গভীর রা‌তে কা‌রো গরম নিঃশ্বা‌সে তনয়ার ঘুম ভাঙ‌লো। তনয়া দে‌খে ও আয়া‌তের বু‌কে। তনয়া তখন হাস‌বে না গড়াগ‌ড়ি দি‌য়ে কান্না কর‌বে বুঝ‌তে পার‌ছে না। ম‌নে বল‌ছে চিৎকার ক‌রে আল্লাহর কা‌ছে জান‌তে ইচ্ছা কর‌ছে হে খোদা পৃ‌থিবীর সব থে‌কে তার‌ছিড়া সাই‌কো টাইপ মানুষটাকে তু‌মি আমার কপা‌লে বেঁ‌ধে দি‌লে? ওনি আমায় পাগ‌লের মত ভা‌লোবা‌সে আবার পাগ‌লের মতই ঘৃনা ক‌রে। হে খোদা তুমি আমায় পথ দেখাও। আমি কি করবো? তখন তনয়ার মোবা‌ইলে কিছু মে‌সেস আস‌লো।

তনয়া মে‌সেস গু‌লো দে‌খে বল‌লো কাল‌কেই আপনার সব ভুল ভাঙ‌বো আয়াত।


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন